উপহার কর: এই ভুলগুলি করলেই পস্তাবেন, এখনই জানুন সঠিক নিয়ম

webmaster

증여세 신고 시 유의사항 - A discerning young professional woman in her early 30s, dressed in a sophisticated yet understated b...

আরে বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালোই আছেন। আমরা বাঙালিরা তো আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে উপহার আদান-প্রদান করতে খুব ভালোবাসি, তাই না? জন্মদিন, বিবাহ, উৎসব – যেকোনো উপলক্ষেই আমরা মন খুলে উপহার দিই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, এই ভালোবাসার উপহারের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু জটিল কর সংক্রান্ত নিয়মকানুন?

অনেকেই ভাবেন, “এতো নিজেদের মধ্যেই দেওয়া-নেওয়া, এতে আবার কিসের কর!” কিন্তু বিশ্বাস করুন, বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে কিন্তু ততটা নয়। আমি নিজেও যখন প্রথমবার উপহার করের বিষয়টি নিয়ে ঘাটাঘাটি করি, তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম। সামান্য ভুল বা তথ্যের অভাবে ভবিষ্যতে যে কত বড় ঝামেলায় পড়তে হতে পারে, তা ভাবলেই শিউরে উঠি!

সরকার কিন্তু এই বিষয়ে বেশ কড়া। তাই, প্রিয়জনদের দেওয়া উপহারের কারণে যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত আইনি জটিলতায় না পড়েন, তার জন্য কিছু বিষয় জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আজকালকার দিনে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমেও উপহার দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রেও কিন্তু নিয়মগুলো জানা থাকা চাই। তাই আর দেরি না করে চলুন, উপহার কর ঘোষণার সময় ঠিক কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তা একদম খুঁটিয়ে জেনে নেওয়া যাক।

উপহার করের জট ছাড়িয়ে: কখন কী ঘোষণা করবেন?

증여세 신고 시 유의사항 - A discerning young professional woman in her early 30s, dressed in a sophisticated yet understated b...

বন্ধুরা, উপহার করের বিষয়টি আমাদের কাছে যতটা সহজ মনে হয়, আদতে কিন্তু ততটা নয়। আমি নিজেও যখন প্রথম প্রথম এই বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করি, তখন আমার চোখ কপালে উঠেছিল! মনে হচ্ছিল, এতোদিন ধরে কত উপহার দিয়েছি আর নিয়েছি, কিন্তু এই করের বিষয়গুলো জানতামই না। সোজা কথায় বলতে গেলে, আপনি যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি মূল্যের কোনো উপহার পান, তবে সেই উপহারের উপর আপনাকে কর দিতে হতে পারে। সরকার এই কর আরোপ করে মূলত সম্পদের বন্টন এবং কালো টাকা প্রতিরোধের জন্য। তাদের যুক্তি হলো, যদি উপহারের উপর কোনো কর না থাকে, তাহলে অনেকেই অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থকে “উপহার” হিসেবে দেখিয়ে কর ফাঁকি দিতে পারে। তাই, এই নিয়মগুলো জানা আমাদের জন্য খুবই জরুরি। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়িক লেনদেনের বাইরেও বড় অঙ্কের অর্থ বা সম্পত্তি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই নিয়মগুলো না জানলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, উপহার করের মৌলিক ধারণাটা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

উপহার করের মৌলিক ধারণা

উপহার কর বা “গিফট ট্যাক্স” হলো এমন একটি কর যা আপনি যখন কারও কাছ থেকে বিনা মূল্যে কোনো সম্পদ বা অর্থ পান, তখন সেই প্রাপ্ত অর্থের উপর ধার্য করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন উপহারের আড়ালে কালো টাকা বা হিসাববিহীন সম্পদ লেনদেন করতে না পারে। একটা নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা পর্যন্ত উপহার সাধারণত করমুক্ত থাকে। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করলেই আপনাকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদের মূল্য ঘোষণা করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে। এই সীমা দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই আপনার দেশের নির্দিষ্ট নিয়মাবলী জেনে নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় আপনাকে কোনো বড় অঙ্কের অর্থ উপহার দেন, তাহলে তার উপর কর লাগতে পারে। কিন্তু আপনার বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রী’র কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহারের ক্ষেত্রে নিয়মাবলী বেশ খানিকটা শিথিল থাকে। এই মৌলিক বিষয়গুলো জানা না থাকলে, অনেক সময় না জেনেও মানুষ আইন ভঙ্গ করে বসে, যা পরবর্তীতে জটিলতার সৃষ্টি করে।

সরকারের নজর কেন উপহারের উপর?

সরকার কেন উপহারের উপর নজর রাখে, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। সহজ ভাষায়, এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, কালো টাকা এবং অর্থ পাচার রোধ করা। যদি উপহার কর না থাকত, তাহলে যে কেউ তার হিসাববিহীন অর্থকে “উপহার” হিসেবে দেখিয়ে বৈধ করে নিতে পারত। দ্বিতীয়ত, এটি সম্পদের সুষম বন্টনে সহায়তা করে। ধনী ব্যক্তিরা যেন তাদের সম্পদ পুরোপুরি করমুক্ত উপায়ে হস্তান্তর করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও একটি লক্ষ্য। আমার এক বন্ধু একবার বলেছিল, “এতো নিজেদের মধ্যেই দেওয়া-নেওয়া, এতে আবার কিসের কর!” আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে, সরকার এই লেনদেনগুলোর উপর নজর রাখে কারণ এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির গতিবিধি বোঝা যায় এবং কর ফাঁকি কমানো যায়। এছাড়াও, কোনো ব্যক্তি যদি হঠাৎ করে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন, তখন সরকার জানতে চায় সেই সম্পদের উৎস কী। উপহার করের নিয়মাবলী সেই উৎস ট্র্যাক করতে সাহায্য করে। তাই, উপহার করের এই গুরুত্বকে ছোট করে দেখা একদমই উচিত নয়।

কোন ধরনের উপহার করের জালে ধরা পড়ে আর কোনটা বাইরে?

উপহারের প্রকারভেদ অনুযায়ী এর করযোগ্যতাও ভিন্ন হয়। আমি নিজেও এই বিষয়টি নিয়ে শুরুতে বেশ বিভ্রান্তিতে ছিলাম। ভাবতাম, সব উপহার বুঝি একই রকম! কিন্তু পরে বুঝলাম, কিছু উপহার আছে যা করের আওতায় আসে, আবার কিছু আছে যা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে করমুক্ত। যেমন ধরুন, নগদ টাকা বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত অর্থ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলেই করযোগ্য হয়ে ওঠে। স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট যদি উপহার হিসেবে পান, তাহলে সেটির বাজার মূল্যের উপর ভিত্তি করে কর ধার্য হতে পারে। আবার, কিছু অস্থাবর সম্পত্তি যেমন শেয়ার, বন্ড, গহনা বা দামি গাড়িও করের আওতায় আসে যদি তাদের মূল্য নির্দিষ্ট সীমার উপরে হয়। আমার মনে আছে, একবার এক বন্ধুর কাছ থেকে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা উপহার পেয়েছিলাম যখন সে বিদেশে চলে যাচ্ছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, এটি নিছকই বন্ধুর ভালোবাসা, কিন্তু পরে জানতে পারি এরও একটি করের দিক আছে! অপরদিকে, কিছু উপহার আছে যা সাধারণত করমুক্ত থাকে, যেমন নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহার বা বিবাহ, জন্মদিন ইত্যাদি বিশেষ অনুষ্ঠানে পাওয়া কিছু উপহার। এই পার্থক্যগুলো বোঝা খুবই জরুরি যাতে আপনি সঠিকভাবে আপনার কর পরিকল্পনা করতে পারেন।

করযোগ্য উপহারের আসল চিত্র

সাধারণত, যখন আপনি আপনার বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা ভাই-বোনের মতো সরাসরি আত্মীয় নন এমন কারো কাছ থেকে নগদ অর্থ বা কোনো মূল্যবান সম্পত্তি পান, এবং সেটির মূল্য একটি নির্দিষ্ট বার্ষিক সীমা অতিক্রম করে, তখনই তা করযোগ্য হয়ে ওঠে। এই সীমার পরিমাণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত থাকে এবং এটি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন ধরুন, আপনি আপনার এক কাজিনের কাছ থেকে একটি দামি ঘড়ি বা বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ পেলেন যা সেই সীমার বাইরে। এক্ষেত্রে প্রাপ্ত উপহারের বাজার মূল্য অনুযায়ী আপনাকে কর দিতে হতে পারে। এছাড়াও, কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত উপহার, যা আপনার কর্মজীবনের অংশ নয়, সেগুলোও করযোগ্য হতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ধরনের উপহারগুলো গ্রহণ করার আগে এর কর সংক্রান্ত দিকটি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। কারণ, পরে যখন করের নোটিশ আসে, তখন বেশ বিপদে পড়তে হয়। তাই, কোনো উপহার গ্রহণ করার আগে সবসময় এর করযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

করমুক্ত উপহারের আনন্দ

ভালো খবর হলো, সব উপহারই করযোগ্য নয়! কিছু উপহার আছে যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে করমুক্ত থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহার। সাধারণত, আপনার স্বামী/স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন এবং আপনার সন্তানদের কাছ থেকে প্রাপ্ত যেকোনো উপহার, তা যত মূল্যেরই হোক না কেন, তা করমুক্ত থাকে। এছাড়াও, বিবাহ, জন্মদিন বা অন্য কোনো উৎসবের মতো বিশেষ সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত উপহারও একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করমুক্ত হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, চিকিৎসা বা শিক্ষা ব্যয়ের জন্য প্রাপ্ত অর্থও করমুক্ত থাকে, যদি সেই অর্থ সরাসরি সেই প্রতিষ্ঠানে পরিশোধ করা হয়। মনে রাখবেন, এই নিয়মগুলো দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই আপনার দেশের নির্দিষ্ট আইন ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। আমি নিজেও যখন আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট উপহার পাই, তখন প্রথমে চিন্তায় পড়েছিলাম, কিন্তু পরে জানতে পারি যে এই ধরনের উপহার সাধারণত করমুক্ত থাকে। তাই, যখনই কোনো উপহার পান, প্রথমেই হতাশ না হয়ে এর করমুক্তির শর্তগুলো জেনে নিন।

Advertisement

আত্মীয়-স্বজনের উপহারের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়মাবলী

আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে উপহার আদান-প্রদান একটি খুবই সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এই সম্পর্কের উপর ভিত্তি করেও উপহার করের নিয়মে বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যায়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক, কারণ অনেক সময় আমরা মনে করি, “নিজের মানুষ” দিচ্ছে মানেই বুঝি কোনো সমস্যা নেই! কিন্তু আইন এখানেও কিছু সুনির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়। বিশেষ করে, নিকটাত্মীয় এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের থেকে প্রাপ্ত উপহারের নিয়মাবলী সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি নিজেও একবার আমার এক দূর সম্পর্কের মামার কাছ থেকে একটি দামি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট পেয়েছিলাম। তখন আমার একজন ট্যাক্স পরামর্শক আমাকে এই পার্থক্যগুলো বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, যা আমার অনেক কাজে লেগেছে। তাই, আসুন, এই নিয়মগুলো একটু খুঁটিয়ে জেনে নিই যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায় পড়তে না হয়। মনে রাখবেন, ভালোবাসার উপহারের পেছনে লুকিয়ে থাকা আইনি জটিলতা অনেক সময় সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে, তাই সাবধানতা অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ।

নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি

এই অংশটি হয়তো অনেকের জন্যই স্বস্তির খবর। সাধারণত, আপনার স্বামী/স্ত্রী, বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, সন্তান, এবং আপনার ভাই-বোনদের মতো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের কাছ থেকে আপনি যে কোনো মূল্যের উপহার পান না কেন, সেটির উপর কোনো কর ধার্য করা হয় না। এটিকে আইনি ভাষায় “কর অব্যাহতি” বলা হয়। এর কারণ হলো, সরকার পরিবারিক সম্পর্কের মধ্যে হওয়া লেনদেনকে সাধারণত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবেই দেখে এবং সেগুলোকে করের আওতায় আনতে চায় না। যেমন ধরুন, আপনার বাবা আপনাকে পড়াশোনার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিলেন, অথবা আপনার স্বামী/স্ত্রী আপনাকে একটি গাড়ি উপহার দিলেন, এগুলোর উপর সাধারণত কোনো কর লাগবে না। আমার এক বন্ধু তার বাবার কাছ থেকে একটি বাড়ি উপহার পেয়েছিল, সেও শুরুতে চিন্তায় ছিল, কিন্তু পরে জানতে পারলো যে নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তি করমুক্ত। তবে, এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, এই সম্পর্কের প্রমাণপত্র রাখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন উঠলে আপনি তা প্রমাণ করতে পারেন।

দূরবর্তী আত্মীয় বা বন্ধুদের থেকে উপহারের নিয়ম

এবার আসি একটু কঠিন অংশে। যখন আপনি আপনার নিকটাত্মীয় নন এমন কারো কাছ থেকে, যেমন ধরুন আপনার কাজিন, মামাতো ভাই, খালাতো বোন, বন্ধু-বান্ধব বা অন্য কোনো পরিচিত ব্যক্তি থেকে একটি নির্দিষ্ট মূল্যের বেশি উপহার পান, তখন সেটির উপর কর ধার্য হতে পারে। এই নির্দিষ্ট মূল্য বা “সীমা” সরকার কর্তৃক নির্ধারিত থাকে এবং তা দেশভেদে ভিন্ন হয়। যদি উপহারের মূল্য এই সীমা অতিক্রম করে, তাহলে আপনাকে সেই অতিরিক্ত মূল্যের উপর কর দিতে হবে। যেমন, আপনার এক বন্ধু আপনাকে তার বিয়েতে একটি ৫০ হাজার টাকার চেক উপহার দিল, আর আপনার দেশে এই সীমা যদি ২৫ হাজার টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকার উপর আপনাকে কর দিতে হতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ধরনের উপহারগুলো গ্রহণ করার সময় একটু সাবধানে থাকা ভালো। উপহারদাতাকে জিজ্ঞেস করে নিন যে তিনি কি উপহার কর সম্পর্কে অবগত আছেন। কারণ, যদি আপনি সঠিক সময়ে কর ঘোষণা না করেন, তাহলে ভবিষ্যতে আপনাকে জরিমানা সহ অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে। তাই, প্রিয়জনের দেওয়া উপহারের জন্য যেন কোনো অপ্রত্যাশিত ঝামেলার মুখোমুখি না হতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা খুব দরকারি।

উপহারের মূল্য নির্ধারণ: কীভাবে সঠিক হিসাব করবেন?

উপহার করের জগতে সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো উপহারের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা। কারণ, আপনি যদি উপহারের মূল্য সঠিকভাবে নির্ধারণ না করেন, তাহলে হয়তো কম কর দিয়ে ধরা পড়বেন অথবা বেশি কর দিয়ে লোকসান করবেন। এই বিষয়টি এতটাই সংবেদনশীল যে, আমি নিজেও যখন প্রথমবার একটি জমি উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম, তখন এর মূল্য নির্ধারণ নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, দলিলপত্রে যে মূল্য লেখা আছে, সেটাই বুঝি চূড়ান্ত। কিন্তু পরে জানতে পারি, এর বাজার মূল্য বা ফেয়ার মার্কেট ভ্যালু অনুযায়ী হিসাব করতে হবে! এই ভুলটা অনেকেই করে বসেন। তাই, আপনাকে জানতে হবে কীভাবে বিভিন্ন ধরনের উপহারের সঠিক মূল্য হিসাব করতে হয়। এটি শুধু আপনার করের হিসাবই সঠিক রাখে না, বরং ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা থেকেও আপনাকে বাঁচায়। আসুন, এই জটিল হিসাবটা একটু সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করি।

আর্থিক উপহারের সরল মূল্যায়ন

নগদ টাকা বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত অর্থ উপহার হিসেবে পেলে তার মূল্য নির্ধারণ করা সবচেয়ে সহজ। কারণ, এখানে মূল্যের কোনো রকমফের হয় না। আপনি যত টাকা পেয়েছেন, সেটাই তার সঠিক মূল্য। যেমন, যদি আপনার বন্ধু আপনাকে ৫০ হাজার টাকা নগদ বা চেকের মাধ্যমে উপহার দেন, তাহলে সেই ৫০ হাজার টাকাই হবে তার উপহার মূল্য। এখানে কোনো অতিরিক্ত হিসাব বা মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই। তবে, যদি বিদেশি মুদ্রায় অর্থ প্রাপ্ত হয়, তাহলে সেই মুদ্রাকে যেদিন পেয়েছেন সেদিনের বিনিময় হার অনুযায়ী আপনার স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। মনে রাখবেন, এই আর্থিক উপহারগুলো একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলেই করযোগ্য হয়ে ওঠে। তাই, টাকা হাতে পেলেই কেবল আনন্দে আত্মহারা না হয়ে, এটি আপনার বার্ষিক করমুক্ত সীমার মধ্যে পড়ছে কিনা, তা যাচাই করে নিন। এই সরল হিসাবের ভুল অনেকেই করে বসেন, এবং পরে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়।

স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সূক্ষ্ম হিসাব

আর্থিক উপহারের চেয়ে স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট) বা অস্থাবর সম্পত্তি (যেমন সোনা-গহনা, শেয়ার, গাড়ি, আর্ট পিস) উপহার হিসেবে পেলে তার মূল্য নির্ধারণ করাটা বেশ কঠিন হতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত “বাজার মূল্য” বা “ফেয়ার মার্কেট ভ্যালু” অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়। এর মানে হলো, উপহার পাওয়ার তারিখে ওই সম্পত্তির বাজার মূল্য কত ছিল, সেই অনুযায়ী হিসাব করতে হবে। যেমন, যদি আপনি একটি জমি উপহার হিসেবে পান, তাহলে সেই জমির বর্তমান বাজার দর কত, সেটি বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট এজেন্টের কাছ থেকে জেনে অথবা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সাথে মিলিয়ে সঠিক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। গহনার ক্ষেত্রে, তার ওজন এবং বিশুদ্ধতা অনুযায়ী সোনার বা রূপার বাজার মূল্য হিসাব করতে হয়। শেয়ারের ক্ষেত্রে, উপহার পাওয়ার দিনের শেয়ারবাজারের বন্ধ মূল্য বা ক্লোজিং প্রাইসকে মূল্য হিসেবে ধরা হয়। আমার একজন প্রতিবেশী একবার তার ভাইয়ের কাছ থেকে একটি দামি পুরনো গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন। তিনি গাড়িটির মডেল বছর অনুযায়ী পুরনো মূল্য ধরেছিলেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন যে তাকে গাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী কর দিতে হবে। তাই, এই ধরনের উপহারের ক্ষেত্রে একজন পেশাদার মূল্যায়নকারীর সাহায্য নেওয়া বা অন্তত বিস্তারিত গবেষণা করা বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল মূল্য নির্ধারণ করলে কর বিভাগ থেকে নোটিশ আসার সম্ভাবনা থাকে।

Advertisement

ডিজিটাল যুগে উপহার: অনলাইন লেনদেনও কি করের আওতায়?

증여세 신고 시 유의사항 - A focused individual in their late 20s, wearing smart, casual attire, is deeply engrossed in a vibra...

আজকালকার দিনে সব কিছুই ডিজিটাল হয়ে গেছে, তাই না? আমরা অনলাইনে কেনাকাটা করি, বিল পরিশোধ করি, আর হ্যাঁ, উপহারও আদান-প্রদান করি ডিজিটাল মাধ্যমে! ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ব্যাংকিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি – কত সহজ হয়ে গেছে সব। কিন্তু এই ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপহারগুলোও কি করের আওতায় আসে? আমি যখন প্রথমবার অনলাইনে একজন পরিচিতের কাছ থেকে বেশ বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছিলাম, তখন একটু চিন্তায় পড়েছিলাম। কারণ, নগদ টাকার হিসাব রাখা একরকম, আর ডিজিটাল লেনদেনের হিসাব রাখা আরেকরকম। ব্যাংক স্টেটমেন্টে তো সব কিছু দেখা যায়, তাহলে কি সরকারেরও নজর থাকে? হ্যাঁ বন্ধুরা, উত্তর হলো, অবশ্যই! সরকার এই ডিজিটাল লেনদেনগুলোর উপরও কড়া নজর রাখে। কারণ, এই মাধ্যমগুলোও কর ফাঁকির একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তাই, ডিজিটাল উপহার আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও আপনাকে কর সংক্রান্ত নিয়মাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আমার মনে হয়, এটি এখনকার সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি, কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা বড় অংশই এখন ডিজিটাল লেনদেনের উপর নির্ভরশীল।

অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপহারের ট্র্যাকিং

যখন আপনি ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপস (যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট) বা অন্য কোনো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ উপহার হিসেবে পান, তখন এই লেনদেনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাক করা হয়। আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা মোবাইল ওয়ালেট স্টেটমেন্টে এই লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য জমা থাকে। এর অর্থ হলো, সরকার চাইলে খুব সহজেই এই লেনদেনগুলো সম্পর্কে জানতে পারে। তাই, আপনি যদি অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে কোনো অর্থ উপহার হিসেবে পান, তাহলে সেটিকে করের আওতায় আনতে হবে এবং সময় মতো ঘোষণা করতে হবে। আমি একবার আমার এক ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে তাকে অনলাইনে একটি বড় অঙ্কের টাকা পাঠিয়েছিলাম। পরে তার একজন অ্যাকাউনট্যান্ট বন্ধু তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ যদি বার্ষিক করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তাকে কর ঘোষণা করতে হবে। এই বিষয়টি আমাদের অনেকেরই অজানা থাকে। তাই, যখনই অনলাইন মাধ্যমে কোনো অর্থ উপহার হিসেবে গ্রহণ করবেন, তখন তার উৎস এবং পরিমাণ সম্পর্কে সজাগ থাকুন এবং প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ নিন।

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদের কর বিধি

ডিজিটাল উপহারের আলোচনায় ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা না বললে সেটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মুদ্রা বা NFT-এর মতো সম্পদ যখন আপনি উপহার হিসেবে পান, তখন সেগুলোর করযোগ্যতা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার মূল্য সবসময় ওঠা-নামা করে, তাই এর মূল্য নির্ধারণ করাটাও কিছুটা জটিল। সাধারণত, যেদিন আপনি ক্রিপ্টোকারেন্সি উপহার হিসেবে পেয়েছেন, সেদিনের বাজার মূল্য অনুযায়ী এর মূল্যায়ন করা হয় এবং তা করের আওতায় আসে। এছাড়াও, ডিজিটাল গোল্ড বা অন্যান্য ডিজিটাল অ্যাসেটও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অনেক দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই এর উপহারও সম্পত্তির উপহারের মতোই বিবেচিত হয়। আমার একজন বন্ধু একবার বিটকয়েন উপহার পেয়ে খুব উচ্ছ্বসিত ছিল, কিন্তু পরে জানতে পারলো যে এই বিটকয়েনকে নগদ টাকায় রূপান্তর করার সময় বা উপহার হিসেবে পাওয়ার সময়েও তাকে করের হিসাব রাখতে হবে। তাই, এই নতুন যুগের ডিজিটাল সম্পদের ক্ষেত্রেও কর সংক্রান্ত নিয়মাবলী সম্পর্কে আপডেটেড থাকা খুবই জরুরি।

সময়মতো কর ঘোষণা না করার ঝুঁকি ও জরিমানা

বন্ধুরা, এই অংশটি হয়তো কিছুটা ভীতিকর শোনাবে, কিন্তু সত্যিটা জানতে হবেই। আমরা অনেকেই মনে করি, “কে আর অত খেয়াল করবে!” বা “একটু দেরি হলে কী হবে!” কিন্তু বিশ্বাস করুন, উপহার করের ক্ষেত্রে এই মানসিকতা আপনাকে বড় বিপদে ফেলতে পারে। সময়মতো এবং সঠিকভাবে উপহার কর ঘোষণা না করলে যে কী কী জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা ভাবলেই আমার বুক কেঁপে ওঠে। আমি নিজেও একবার ছোট্ট একটি ভুলে বিপদে পড়তে যাচ্ছিলাম, যখন আমার একজন ট্যাক্স পরামর্শক আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র ভুল তথ্য বা সঠিক সময়ে ঘোষণা না করার কারণে যে আর্থিক জরিমানা এবং আইনি ঝামেলায় পড়তে হতে পারে, তা কল্পনারও বাইরে। সরকার এই বিষয়ে একেবারেই ছাড় দেয় না। তাই, যদি আপনি কোনো করযোগ্য উপহার গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সময়মতো তা ঘোষণা করা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। অবহেলা করলে ভবিষ্যতে যে বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুণতে হতে পারে, তার চাপ সত্যিই অসহনীয়।

অঘোষিত উপহারের মারাত্মক পরিণতি

যদি আপনি কোনো করযোগ্য উপহার গ্রহণ করেন এবং সেটিকে আপনার করের নথিতে ঘোষণা না করেন, তাহলে এর পরিণতি বেশ মারাত্মক হতে পারে। প্রথমত, কর বিভাগ যখন আপনার এই অঘোষিত উপহারটি শনাক্ত করতে পারবে, তখন আপনাকে শুধু মূল করই নয়, বরং সেই করের উপর মোটা অঙ্কের সুদ এবং জরিমানা সহ পরিশোধ করতে হবে। অনেক সময় এই জরিমানার অঙ্ক মূল করের চেয়েও অনেক বেশি হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, যদি কর বিভাগ মনে করে যে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাহলে এর জন্য আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে, যা আপনার জন্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আমার একজন পরিচিত একবার একটি জমি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেটির কর ঘোষণা করেননি। কয়েক বছর পর কর বিভাগ যখন বিষয়টি জানতে পারে, তখন তাকে মূল করের তিন গুণেরও বেশি জরিমানা দিতে হয়েছিল, যা তার জন্য একটি বড় আর্থিক ধাক্কা ছিল। তাই, অঘোষিত উপহার আপনাকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে এটি একটি মারাত্মক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

বিলম্বে কর ঘোষণার বাড়তি খরচ

উপহার কর ঘোষণা করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। যদি আপনি সেই সময়সীমার মধ্যে আপনার উপহার কর ঘোষণা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আপনাকে “বিলম্বিত ফি” বা “লেটেস্ট ফাইন” দিতে হতে পারে। এই ফি সাধারণত প্রতিদিন বা প্রতি মাসের হিসেবে ধার্য করা হয়, এবং এটি যত দেরি হবে, ততই বাড়তে থাকবে। এছাড়াও, বিলম্বিত করের উপর আপনাকে অতিরিক্ত সুদও পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি শুধুমাত্র মূল করই নয়, বরং বিলম্বিত ফি এবং সুদ – এই তিনটি বোঝা একসাথে বহন করতে বাধ্য হবেন। আমার নিজের একবার এমন একটি অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যখন আমি একটি বিনিয়োগের কর ঘোষণা করতে সামান্য দেরি করে ফেলেছিলাম। যদিও উপহার কর ছিল না, কিন্তু বিলম্বিত ফি এবং সুদ মিলিয়ে আমাকে বেশ বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছিল, যা আমার জন্য একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। তাই, সময়মতো কর ঘোষণা করাটা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং আপনার আর্থিক সুস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। সামান্য আলস্যের কারণে যেন আপনার পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা বেরিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

Advertisement

উপহার কর বাঁচানোর কিছু আইনি কৌশল

আমরা সবাই চাই আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ বা প্রিয়জনদের দেওয়া উপহারের মূল্য যেন কোনো অপ্রয়োজনীয় করের বোঝায় চাপা না পড়ে। কিন্তু উপহার করের নিয়মাবলী তো মানতেই হবে, তাই না? তাহলে কি এমন কোনো উপায় আছে যার মাধ্যমে আইনিভাবে এই করের বোঝা কিছুটা কমানো যায়? হ্যাঁ বন্ধুরা, অবশ্যই আছে! আমি নিজেও যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করি, তখন বেশ কিছু দারুণ কৌশল খুঁজে পেয়েছিলাম, যা সম্পূর্ণরূপে আইনসম্মত এবং আপনাকে উপহার করের ধাক্কা থেকে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। এখানে কিছু টিপস দেব যা আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। তবে, মনে রাখবেন, প্রতিটি দেশের আইন ভিন্ন এবং কর পরিকল্পনা সবসময় একজন পেশাদার ট্যাক্স উপদেষ্টার সাথে আলোচনা করে করা উচিত। আমার উদ্দেশ্য হলো আপনাকে একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া যাতে আপনি নিজেই আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়াতে পারেন।

বার্ষিক করমুক্ত সীমার সঠিক ব্যবহার

প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উপহার হিসেবে গ্রহণ করলে তার উপর কোনো কর দিতে হয় না। এটিকে “বার্ষিক করমুক্ত সীমা” বা “অ্যানুয়াল এক্সাম্পশন লিমিট” বলা হয়। আপনি যদি একজন বুদ্ধিমান করদাতা হন, তাহলে এই সীমাটি ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, যদি আপনি কাউকে একটি বড় অঙ্কের অর্থ বা সম্পত্তি উপহার দিতে চান যা এই সীমার উপরে, তাহলে আপনি সেটিকে একবারে না দিয়ে কয়েক বছরে ভাগ করে দিতে পারেন। প্রতি বছর আপনি বার্ষিক করমুক্ত সীমার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অংশ উপহার দিলেন। এতে করে প্রাপককে কোনো উপহার কর দিতে হবে না। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার দেশের বার্ষিক করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা হয় এবং আপনি কাউকে এক লাখ টাকা উপহার দিতে চান, তাহলে আপনি দু’বছরে ২৫ হাজার করে দিতে পারেন। আমার এক বন্ধু তার সন্তানদের পড়াশোনার জন্য এভাবে প্রতি বছর ছোট ছোট অঙ্কের টাকা উপহার দিত, যার ফলে তার সন্তানদের কোনো উপহার কর দিতে হয়নি। তবে, এই পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হতে হবে এবং এর জন্য আগাম পরিকল্পনা করা জরুরি।

ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উপহার

যদি আপনার কাছে প্রচুর সম্পদ থাকে এবং আপনি সেগুলোকে আপনার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বিতরণ করতে চান, তাহলে “ট্রাস্ট” বা “ফাউন্ডেশন” গঠন করা একটি অত্যন্ত কার্যকর আইনি কৌশল হতে পারে। ট্রাস্ট হলো একটি আইনি ব্যবস্থা যেখানে আপনার সম্পদ একজন তৃতীয় পক্ষ (ট্রাস্টি) দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এর সুবিধাভোগী হন আপনার মনোনীত ব্যক্তিরা। ট্রাস্টের মাধ্যমে দেওয়া উপহারের ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, যা সরাসরি উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। এটি বিশেষ করে যারা বিশাল অঙ্কের সম্পত্তি বা ব্যবসা হস্তান্তর করতে চান, তাদের জন্য উপকারী। আমার এক পরিচিত ব্যবসায়ী তার মৃত্যুর পর যাতে সন্তানদের উপহার করের বোঝা না বাড়ে, তার জন্য একটি পারিবারিক ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তার সম্পদগুলোকে আইনসম্মতভাবে বিন্যস্ত করতে পেরেছিলেন এবং করের বোঝা অনেকটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে, ট্রাস্ট গঠন করা একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া, তাই অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী বা কর উপদেষ্টার সাহায্য নিতে হবে।

উপহারের ধরন করের অবস্থা (সাধারণ নিয়ম) বিশেষ বিবেচনা
নগদ টাকা (নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে) করযোগ্য আত্মীয়তার সম্পর্ক (নিকটাত্মীয়) এবং বার্ষিক সীমা সাপেক্ষে অব্যাহতি
স্থাবর সম্পত্তি (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট) করযোগ্য নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে (যেমন বিবাহ) এবং নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রে অব্যাহতি থাকতে পারে
অস্থাবর সম্পত্তি (গহনা, গাড়ি, শেয়ার, বন্ড) করযোগ্য ছোটখাটো ব্যক্তিগত উপহার (যেমন বই, খেলনা) সাধারণত করমুক্ত; মূল্য সীমার উপর নির্ভর করে
চিকিৎসা বা শিক্ষা ব্যয়ের জন্য প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত যদি দাতাকে সরাসরি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয় (অর্থাৎ, সুবিধাভোগীর কাছে নগদ টাকা না আসে)
বিবাহ বা জন্মদিনের উপহার (নগদ বা বস্তুগত) নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করমুক্ত, তারপর করযোগ্য উপহারের মূল্য এবং দাতার সম্পর্কের উপর নির্ভর করে
ডিজিটাল সম্পদ (ক্রিপ্টোকারেন্সি, NFT) করযোগ্য প্রাপ্তির দিনের বাজার মূল্য অনুযায়ী মূল্যায়ন; নির্দিষ্ট নিয়মাবলী প্রযোজ্য

글을마치며

বন্ধুরা, উপহার করের এই জটিল জগৎটা আমরা একসাথে ঘুরে দেখলাম। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেকেই এই নিয়মগুলো না জানার কারণে অহেতুক সমস্যায় পড়েন বা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। কিন্তু আমরা তো আর সেই ভুলগুলো করব না, তাই না? এই আলোচনা থেকে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে, উপহার শুধু ভালোবাসার আদান-প্রদান নয়, এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি এবং আর্থিক দিকও আছে। সময়মতো সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া এবং সে অনুযায়ী কাজ করা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। এতে একদিকে যেমন আপনার আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, তেমনই অন্যদিকে দেশের প্রতি আপনার নাগরিক দায়িত্বও পালন করা হবে। তাই, এখন থেকে যেকোনো উপহার গ্রহণ বা প্রদানের আগে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।

Advertisement

알아두면 쓸મો 있는 তথ্য

1. উপহার করের আইন প্রতিটি দেশে ভিন্ন হয়, তাই আপনি যে দেশে থাকেন সেখানকার সর্বশেষ আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকুন। এটি আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে বাঁচাবে।

2. নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া বেশিরভাগ উপহারই করমুক্ত থাকে, কিন্তু এর বাইরে অন্য কারো কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের উপহার পেলে তা অবশ্যই করযোগ্য হবে। তাই, সম্পর্কের ধরন বুঝে উপহার গ্রহণ করুন।

3. যেকোনো মূল্যবান উপহার, বিশেষ করে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার, গহনা), গ্রহণ করলে তার সঠিক বাজার মূল্য নির্ধারণ করে নিন। প্রয়োজনে একজন পেশাদার মূল্যায়নকারীর সাহায্য নিন।

4. ডিজিটাল মাধ্যমে প্রাপ্ত উপহার, যেমন অনলাইন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ক্রিপ্টোকারেন্সি, সেগুলোর উপরও কর প্রযোজ্য হতে পারে। এই লেনদেনগুলো ট্র্যাক করা সম্ভব, তাই ডিজিটাল উপহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন।

5. উপহার কর সময়মতো ঘোষণা না করলে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তাই, যেকোনো করযোগ্য উপহার প্রাপ্তির পর দ্রুত তা আপনার করের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করুন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো 정리

উপহার করের বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, আদতে তা নয়। মনে রাখবেন, ৫০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের যেকোনো উপহার, যদি তা নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে না আসে, তবে তা করযোগ্য হবে। এতে নগদ টাকা থেকে শুরু করে জমি, গহনা বা ডিজিটাল সম্পদ সবই অন্তর্ভুক্ত। সময়মতো এই উপহারগুলো আপনার করের নথিতে ঘোষণা না করলে ভবিষ্যতে আপনাকে বড় ধরনের জরিমানা এবং আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই, উপহার গ্রহণ বা প্রদানের আগে সর্বদা সঠিক নিয়মাবলী সম্পর্কে জেনে নিন এবং প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ কর উপদেষ্টার পরামর্শ নিন। আমার বিশ্বাস, এই তথ্যগুলো আপনাকে উপহার করের জট ছাড়িয়ে একটি স্বচ্ছ আর্থিক জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: কাদের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের ওপর কর দিতে হয় আর কাদের কাছ থেকে পাওয়া উপহার করমুক্ত থাকে?

উ: দেখুন, এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন! অনেকেই ভাবেন সব উপহারই বুঝি করমুক্ত। কিন্তু আসলে তা নয়। আমাদের দেশে (বিশেষ করে ভারতে) আয়কর আইন অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট সম্পর্ক বা উৎস থেকে পাওয়া উপহার করমুক্ত থাকে। যেমন, স্বামী/স্ত্রী, ভাই-বোন, স্বামী/স্ত্রীর ভাই-বোন, বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানী এবং আপনার বা আপনার স্বামী/স্ত্রীর যেকোনো সরাসরি বংশধর – এদের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের ওপর কোনো কর লাগে না। অর্থাৎ, আপনার নিজের পরিবারের ঘনিষ্ট সদস্যদের থেকে পাওয়া উপহার নিয়ে আপনাকে করের চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু হ্যাঁ, এই তালিকার বাইরে অন্য কারো কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের কোনো উপহার পেলে (সেটা নগদ টাকা হোক, সম্পত্তি হোক বা অন্য কিছু) তার ওপর কিন্তু কর দিতে হবে। যেমন ধরুন, আপনার দূর সম্পর্কের কোনো বন্ধু বা সহকর্মী আপনাকে ১ লাখ টাকার একটি দামি ঘড়ি উপহার দিলেন, তাহলে সেই ১ লাখ টাকা আপনার ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে ধরা হবে এবং আপনাকে তার ওপর কর দিতে হবে। আমার মনে আছে, একবার আমার এক বন্ধু বিদেশ থেকে এসে আমাকে একটি দারুণ ক্যামেরা উপহার দিয়েছিল, যার বাজার মূল্য বেশ ভালো ছিল। তখন আমিও এই নিয়মটা নিয়ে একটু দ্বিধায় পড়েছিলাম!
আসলে, নিয়মটা জানা থাকলে মনটা শান্ত থাকে।

প্র: ৫০,০০০ টাকার কম মূল্যের উপহারের ক্ষেত্রেও কি আমাকে কোনো কিছু ঘোষণা করতে হবে?

উ: না, সাধারণত ৫০,০০০ টাকার কম মূল্যের উপহারের জন্য আপনাকে আলাদা করে কিছু ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই, যদি সেই উপহার আত্মীয়-স্বজনের তালিকাভুক্ত কারো কাছ থেকে আসে। কিন্তু যদি ৫০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের কোনো উপহার পান (যেমনটা আগের প্রশ্নে বলেছিলাম), এবং সেটা সেই আত্মীয়ের তালিকাভুক্ত কারো কাছ থেকে না আসে, তখন কিন্তু পুরোটাই আপনার আয়ের অংশ হিসাবে ধরা হবে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, অনেক সময় আমরা ছোট ছোট উপহারের হিসেব রাখি না, কিন্তু যখন উপহারের মূল্য একটু বেশি হয়ে যায়, তখন সচেতন হওয়া উচিত। ধরুন, আপনি আপনার কোনো বন্ধুর কাছ থেকে ২৫,০০০ টাকার একটা স্মার্টফোন পেলেন। এই ক্ষেত্রে, যেহেতু মূল্য ৫০,০০০ টাকার কম এবং বন্ধু তালিকাভুক্ত আত্মীয় নন, তাই এই উপহারের জন্য সাধারণত কর লাগে না। তবে, যদি আপনার মনে হয় যে ভবিষ্যতে এই লেনদেন নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে উপহারের একটি প্রমাণপত্র বা ছোট্ট একটি নোট লিখে রাখা ভালো। এতে ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলা হলে আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। বিশেষ করে নগদ টাকা বা মূল্যবান সামগ্রীর ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকা সবসময়ই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্র: উপহার কর নিয়ে সচেতন না থাকলে বা ভুল তথ্য দিলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

উ: ওহ বাবা! এই প্রশ্নটা তো খুবই জরুরি। বিশ্বাস করুন, উপহার কর নিয়ে অসচেতনতা বা ভুল তথ্য দেওয়া কিন্তু আপনাকে বড় বিপদে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন কয়েকজনকে জানি, যারা এই ভুলটা করে বেশ ভুগেছেন। প্রথমত, যদি আপনি করযোগ্য কোনো উপহারের কথা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ না করেন, তাহলে আয়কর বিভাগ এটিকে ‘আয়ের গোপনীয়তা’ হিসেবে দেখতে পারে। আর এর ফলস্বরূপ, আপনাকে জরিমানা দিতে হতে পারে, যা অনেক সময় উপহারের মূল্যের কয়েকগুণ পর্যন্ত হতে পারে। শুধু জরিমানা নয়, অঘোষিত আয়ের ওপর বকেয়া করের সাথে সুদও ধার্য করা হয়। আমার মনে আছে, একবার আমার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে একটি জমি উপহার দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেটা ঘোষণা করেননি। পরে আয়কর বিভাগের নোটিশ আসে এবং তাকে বিরাট অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে আপনার আর্থিক রেকর্ডে একটি খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেনের সময় এই বিষয়গুলো সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই, উপহার ছোট হোক বা বড়, যদি সেটি করযোগ্য হয়, তাহলে অবশ্যই আয়কর রিটার্নে সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। মনে রাখবেন, সরকারের চোখে আপনি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন যদি আপনি স্বচ্ছতা বজায় রাখেন। সামান্য কিছু ভুল তথ্য বা তথ্য গোপন করার জন্য ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ, তাই না?

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement