বীমার মাধ্যমে আয়কর কমানোর অজানা কৌশলগুলি এখনই জেনে নিন

webmaster

소득공제 가능한 보험 - Here are three image generation prompts in English, designed to be detailed, adhere to the safety gu...

আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা? আমরা সবাই চাই আমাদের কষ্টার্জিত টাকা সুরক্ষিত থাকুক এবং সময় মতো আমাদের পাশে এসে দাঁড়াক। কিন্তু শুধু সঞ্চয় করলেই কি হবে?

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে স্মার্টভাবে বিনিয়োগ না করলে সেই টাকার আসল মূল্য কি আর থাকে? আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি নিজের আর্থিক পরিকল্পনা সাজিয়েছি, তখন একটি বিশেষ বিষয় আমাকে ভীষণভাবে আগ্রহী করে তুলেছে। আর তা হলো বীমা – যা একদিকে আপনার পরিবারের জন্য কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক মজবুত ঢাল, আবার অন্যদিকে আয়কর সাশ্রয়ের এক অসাধারণ সুযোগ!

ভাবুন তো, আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হচ্ছে আর তার সাথে বাড়তি করের বোঝাও কমছে, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবণতা বলছে, শুধু ঝুঁকি কমানোই নয়, বুদ্ধি করে কর বাঁচানোও এখন স্মার্ট বিনিয়োগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে কোন বীমা পলিসি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে আর নতুন নিয়ম অনুযায়ী কীভাবে আপনি সর্বাধিক কর রেয়াত পাবেন, তা বিস্তারিত জানা খুবই দরকারি। চলুন, নিচের লেখায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সহজভাবে আরও অনেক কিছু জেনে নেওয়া যাক!

বীমা: শুধু ঝুঁকি কমানো নয়, ভবিষ্যতের স্মার্ট বিনিয়োগও

소득공제 가능한 보험 - Here are three image generation prompts in English, designed to be detailed, adhere to the safety gu...

অনেকেই বীমাকে কেবল একটি ব্যয় মনে করেন, যা কঠিন সময়ে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বীমা এর থেকেও অনেক বেশি কিছু। এটি শুধু আপনার আকস্মিক বিপদ থেকে পরিবারকে রক্ষা করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনায় একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। যখন আমি প্রথম আমার আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি যে শুধুমাত্র সঞ্চয় দিয়ে বড় লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব নয়। ঠিক তখনই বীমার বিনিয়োগ অংশটি আমাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। ভাবুন তো, আপনার দেওয়া প্রিমিয়ামের একটি অংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময় পর সেটি আপনাকে একটি মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করছে! বিশেষ করে এন্ডোমেন্ট বা ইউনিট লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স প্ল্যান (ULIP) -এর মতো পলিসিগুলো ঝুঁকি সুরক্ষার পাশাপাশি বাজার-ভিত্তিক বা নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন দিয়ে থাকে। এটি আপনার সন্তানদের উচ্চশিক্ষা বা অবসরের মতো বড় লক্ষ্য পূরণে দারুণ সহায়ক হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধের অভ্যাস আপনার মধ্যে একটি আর্থিক শৃঙ্খলা তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য খুবই জরুরি। আমি নিজে দেখেছি, যখন আমার বন্ধুরা ছোটখাটো বিনিয়োগে দ্বিধা করত, তখন আমার বীমা পলিসিগুলো নীরবে আমার জন্য একটি তহবিল গড়ে তুলছিল, যা পরে আমার অনেক কাজে এসেছে। এটি আমাকে এক প্রকার মানসিক শান্তিও দিয়েছে যে আমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।

শুধু সুরক্ষা নয়, সম্পদ তৈরির সুযোগও

আমরা সাধারণত মনে করি, বীমা মানেই শুধুই দুর্ঘটনার বা অসুস্থতার খরচ মেটানো। কিন্তু এর বিনিয়োগ অংশটি অনেক সময় আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। সত্যি বলতে, কিছু বীমা পলিসি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যেখানে আপনার প্রিমিয়ামের একটি অংশ শেয়ার বাজার বা বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করা হয়, যা আপনাকে সময়ের সাথে সাথে মূলধনী লাভ এনে দিতে পারে। এটি অনেকটা দ্বি-মুখী তলোয়ারের মতো – একদিকে যেমন আপনি অপ্রত্যাশিত ঘটনার বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকছেন, তেমনি অন্যদিকে আপনার টাকাও বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য, যারা ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক, ULIP পলিসিগুলো একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে। আমি নিজে যখন প্রথম ULIP পলিসি নিয়েছিলাম, তখন কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম, কারণ বাজার-ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় ঘুরছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দেখেছি, দীর্ঘমেয়াদে এটি বেশ ভালো রিটার্ন দিয়েছে, যা আমার অন্য ছোটখাটো সঞ্চয়ের থেকে অনেকটাই বেশি ছিল। তবে হ্যাঁ, এখানে একটু গবেষণা এবং বিচক্ষণতা খুবই জরুরি। আপনার ঝুঁকি সহনশীলতা এবং আর্থিক লক্ষ্যের উপর নির্ভর করে সঠিক পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে। একজন ভালো আর্থিক উপদেষ্টার সাহায্য নিতে পারলে এই ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও সহজ হয়।

ট্যাক্স বাঁচানো আর আর্থিক পরিকল্পনার সেতুবন্ধন

বীমা পলিসি যে শুধুমাত্র সুরক্ষা বা বিনিয়োগের সুযোগ দেয় তা নয়, এটি আয়কর বাঁচানোরও একটি দারুণ উপায়। আমাদের দেশে আয়কর আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারার অধীনে বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করে আপনি কর রেয়াত পেতে পারেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি বাড়তি সুবিধা যা আপনার বার্ষিক করের বোঝা অনেকটাই হালকা করে দেয়। আমি নিজে যখন প্রতি বছর কর হিসাব করতাম, তখন দেখতাম বীমার প্রিমিয়ামগুলো আমাকে বেশ ভালো পরিমাণ কর সাশ্রয় করতে সাহায্য করছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে আপনি এক ঢিলে দুই পাখি মারছেন – একদিকে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকছে, অন্যদিকে সরকারের ঘরে আপনার করের টাকাও কম যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা salaried employee, তাদের জন্য এই সুবিধাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে শুধু কর বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বীমা করেন, যা সঠিক নয়। বরং একটি সামগ্রিক আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বীমাকে দেখলে এর আসল মূল্য বোঝা যায়। ট্যাক্স বাঁচানো একটি বাড়তি সুবিধা, প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আর্থিক সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আমার মতে, এটি এমন একটি সুযোগ যা স্মার্ট আর্থিক পরিকল্পনাবিদদের হাতছাড়া করা উচিত নয়।

আয়কর বাঁচানোর চাবিকাঠি: সঠিক বীমা পলিসির নির্বাচন

আয়কর বাঁচানোর জন্য বাজারে নানা রকম বিনিয়োগের সুযোগ আছে, কিন্তু বীমা পলিসি এক্ষেত্রে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তবে শুধুমাত্র কর বাঁচানোর উদ্দেশ্য নিয়ে যেকোনো পলিসি কিনে ফেললে ভুল করবেন। আসল চাবিকাঠি হলো আপনার প্রয়োজন, আর্থিক লক্ষ্য এবং কর সাশ্রয়ের উদ্দেশ্য – এই সবগুলোর সমন্বয়ে সঠিক পলিসিটি বেছে নেওয়া। আমি যখন প্রথম বীমা পলিসি নিয়েছিলাম, তখন শুধু কর বাঁচানোর চিন্তাই মাথায় ছিল। পরে বুঝেছি, ভুল করেছি। আমার বন্ধুর অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি, সে একটি পলিসি নিয়েছিল যা তার বর্তমান বয়স বা তার পরিবারের প্রয়োজনের সাথে একেবারেই মানানসই ছিল না। এর ফলস্বরূপ, সে একদিকে যেমন পর্যাপ্ত সুরক্ষা পায়নি, তেমনি অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে তার আর্থিক বোঝা বেড়ে গিয়েছিল। তাই, পলিসি কেনার আগে বাজারের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভালো করে গবেষণা করা এবং আপনার আর্থিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পরিকল্পনা বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, বীমা একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার, তাই একবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা পরিবর্তন করা বেশ কঠিন এবং ব্যয়বহুল হতে পারে। আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাদের বয়স, আপনার উপর নির্ভরশীলদের সংখ্যা, এবং আপনার বার্ষিক আয় – এই সব বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

মেয়াদী বীমা: সুরক্ষা ও কর সাশ্রয়ের সহজ পথ

মেয়াদী বীমা বা Term Insurance পলিসি হলো বীমার সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী রূপ। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনার জীবনকে কভার করে এবং এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে, তবে আপনার পরিবার একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পায়। আমার এক আত্মীয় আছেন, যিনি অল্প বয়সে মেয়াদী বীমা নিয়েছিলেন এবং তার পরিবারের জন্য একটি বড় আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। তার দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর পর, এই বীমার টাকা তার পরিবারকে কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। এটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে শিখিয়েছে যে, জীবন অনিশ্চিত এবং একটি মেয়াদী বীমা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর প্রিমিয়াম তুলনামূলকভাবে কম হয়, বিশেষ করে অল্প বয়সে কিনলে। আর এই প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও আপনি আয়করের নির্দিষ্ট ধারার অধীনে কর রেয়াত পেতে পারেন। এটি এমন একটি পলিসি যেখানে আপনি সরাসরি কোনো বিনিয়োগ রিটার্ন না পেলেও, আপনার পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। আমার মতে, প্রত্যেক উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরই একটি মেয়াদী বীমা থাকা উচিত, কারণ এটি আর্থিক সুরক্ষার মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে।

এনডাওমেন্ট এবং ইউলিপ: বিনিয়োগের সাথে কর সুবিধা

যদি আপনি শুধু সুরক্ষা নয়, বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পদও বাড়াতে চান, তবে এনডাওমেন্ট প্ল্যান (Endowment Plan) এবং ইউনিট লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স প্ল্যান (ULIP) আপনার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। এনডাওমেন্ট প্ল্যানগুলো সুরক্ষা এবং সঞ্চয়ের একটি মিশ্রণ, যেখানে পলিসির মেয়াদ শেষে আপনি একটি নিশ্চিত রিটার্ন পান। অন্যদিকে, ULIP আপনাকে শেয়ার বাজার এবং বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়, যা উচ্চতর রিটার্নের সম্ভাবনা তৈরি করে, তবে এর সাথে বাজার-ঝুঁকিও জড়িত থাকে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি যখন একটি ULIP পলিসি নিয়েছিলাম, তখন বাজার অনেকটা অস্থির ছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকায় আমি ভালো রিটার্ন পেয়েছি। এই ধরনের পলিসির প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও আপনি আয়করের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন, যা এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। কিন্তু এখানে সতর্ক থাকা জরুরি। ULIP পলিসিতে বিনিয়োগ করার আগে এর সাথে জড়িত ফি, ফান্ড পারফরম্যান্স এবং আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। আপনার আর্থিক উপদেষ্টার সাথে আলোচনা করে আপনার জন্য সেরা বিকল্পটি বেছে নিন, যেখানে সুরক্ষা, বিনিয়োগ এবং কর সুবিধা – এই তিনটি বিষয়ই আপনার জন্য অনুকূল হয়।

Advertisement

আপনার জীবনের বিভিন্ন স্তরের জন্য উপযোগী বীমা পরিকল্পনা

জীবন একটি নদীর মতো, যা প্রতিনিয়ত বাঁক নেয়। আর জীবনের প্রতিটি বাঁকে আমাদের আর্থিক প্রয়োজন এবং লক্ষ্যগুলোও পরিবর্তিত হয়। তাই, একটি কার্যকর বীমা পরিকল্পনা মানে শুধু একটি পলিসি কিনে ফেলা নয়, বরং জীবনের বিভিন্ন ধাপে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে মানিয়ে নেওয়া। আমি যখন অবিবাহিত ছিলাম, তখন আমার বীমার প্রয়োজন ছিল একরকম; যখন বিয়ে করলাম বা সন্তান এলো, তখন প্রয়োজনগুলো সম্পূর্ণ বদলে গেল। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে অনেকেই এক ধরণের ভুল করে বসেন – জীবনের শুরুতেই একটি পলিসি নিয়ে আর সেটিকে কখনও পর্যালোচনা করেন না। কিন্তু আমার মতে, প্রতি ৫-৭ বছর পর বা জীবনের কোনো বড় পরিবর্তন (যেমন বিয়ে, সন্তান, বাড়ি কেনা, বড় অঙ্কের ঋণ) আসলে আপনার বীমা পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যতের লক্ষ্য, এবং নির্ভরশীলদের সংখ্যা বিবেচনা করে একটি সঠিক পরিকল্পনা আপনাকে নিশ্চিত মানসিক শান্তি দেবে।

অবিবাহিত অবস্থায়: কম প্রিমিয়ামে সর্বোচ্চ সুরক্ষা

অবিবাহিত অবস্থায় সাধারণত আমাদের আর্থিক দায়িত্ব কম থাকে। এই সময়ে বীমার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে পরিবারের উপর যেন কোনো আর্থিক বোঝা না পড়ে। আমার মনে আছে, আমি যখন প্রথম চাকরি শুরু করেছিলাম, তখন একটি কম প্রিমিয়ামের টার্ম ইনস্যুরেন্স নিয়েছিলাম। তখন আমার উপর তেমন নির্ভরশীল কেউ ছিল না, কিন্তু আমি চেয়েছিলাম আমার পরিবার যেন আমার অনুপস্থিতিতে কোনো আর্থিক সংকটে না পড়ে। এই সময়ে একটি উচ্চ কভারেজের টার্ম ইনস্যুরেন্স নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ কম বয়সে প্রিমিয়ামের হার অনেক কম থাকে। এটি আপনাকে ভবিষ্যতে যখন আর্থিক দায়িত্ব বাড়বে, তখন একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, এই সময়ে আপনি যদি ULIP-এর মতো বিনিয়োগ-ভিত্তিক পলিসিতেও অল্প অল্প করে বিনিয়োগ শুরু করেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি ভালো তহবিল গড়ে তুলতে পারবেন। মনে রাখবেন, যত দ্রুত শুরু করবেন, তত বেশি সুবিধা পাবেন।

বিবাহিত জীবনে ও সন্তান আসার পর: পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন

বিয়ে এবং সন্তান আসার পর আপনার বীমার প্রয়োজন সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। আপনার জীবনসঙ্গী এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা তখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়ায়। আমার যখন প্রথম সন্তান হলো, তখন আমি আমার বিদ্যমান বীমা পলিসিগুলো পর্যালোচনা করেছিলাম এবং দেখেছি যে আমার কভারেজ যথেষ্ট ছিল না। তখন আমি আমার টার্ম ইনস্যুরেন্সের কভারেজ বাড়িয়েছিলাম এবং সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি চাইল্ড প্ল্যান নিয়েছিলাম। এই সময়ে আপনার জীবন বীমার কভারেজ এমন হওয়া উচিত যাতে আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার পরিবারের সমস্ত আর্থিক প্রয়োজন (যেমন দৈনন্দিন খরচ, বাচ্চাদের শিক্ষা, ঋণ পরিশোধ) অন্তত ১০-১৫ বছর পর্যন্ত পূরণ হতে পারে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য বীমা (Health Insurance) নিশ্চিত করাও এই পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসা ব্যয় ক্রমশ বাড়ছে এবং একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা আপনাকে অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা খরচের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য একটি comprehensive health plan থাকাটা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি অপরিহার্য প্রয়োজন।

বীমা পলিসি কেনার আগে যে ভুলগুলো এড়ানো জরুরি

বীমা পলিসি কেনাটা অনেকের কাছেই একটি জটিল প্রক্রিয়া মনে হতে পারে, আর এই জটিলতার কারণেই অনেকে কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলেন, যার ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে তাদের অনুশোচনা করতে হয়। আমি নিজে দেখেছি, আমার অনেক বন্ধু তাড়াহুড়ো করে পলিসি কিনে পরে আফসোস করেছে। তাদের প্রধান ভুল ছিল, তারা এজেন্টের কথায় অন্ধভাবে বিশ্বাস করেছে অথবা বাজারের তথাকথিত ‘বেস্ট প্ল্যান’ এর পেছনে ছুটেছে, যা তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সাথে মানানসই ছিল না। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আপনার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে, তাই এখানে তাড়াহুড়ো বা ভুল তথ্য নির্ভরতা খুবই ক্ষতিকর হতে পারে। পলিসি কেনার আগে পর্যাপ্ত গবেষণা, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং নিজের আর্থিক অবস্থা ও লক্ষ্যের সাথে মানানসই একটি পরিকল্পনা বেছে নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ আপনার হাতে, এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও আপনার।

অপর্যাপ্ত কভারেজ: বড় বিপদের ছোট প্রস্তুতি

বীমা পলিসি কেনার সময় সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর মধ্যে একটি হলো অপর্যাপ্ত কভারেজ নেওয়া। অনেকেই প্রিমিয়াম কমানোর জন্য এমন একটি কভারেজ বেছে নেন যা তাদের পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আমার এক বন্ধুর এমন হয়েছিল, সে একটি ছোট অঙ্কের টার্ম ইনস্যুরেন্স নিয়েছিল এবং পরে যখন তার পরিবারে একটি বড় আর্থিক সংকট আসে, তখন সেই কভারেজ যথেষ্ট ছিল না। ভাবুন তো, আপনার পরিবারের প্রতি মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়, আর আপনি ২০-৩০ লাখ টাকার কভারেজ নিয়েছেন! এই টাকা হয়তো কয়েক বছরের খরচ মেটালেও দীর্ঘমেয়াদে তা যথেষ্ট হবে না। তাই, আপনার পরিবারের মাসিক খরচ, বিদ্যমান ঋণ, সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা এবং মূল্যস্ফীতি – এই সবকিছু বিবেচনা করে একটি পর্যাপ্ত কভারেজ বেছে নেওয়া উচিত। একটি সাধারণ নিয়ম হলো, আপনার বার্ষিক আয়ের অন্তত ১০-১৫ গুণ কভারেজ নেওয়া, কিন্তু এটি আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আরও বেশি হতে পারে। এটি এমন একটি সুরক্ষা যা আপনার পরিবারকে আপনার অনুপস্থিতিতেও স্বাবলম্বী থাকতে সাহায্য করবে।

পলিসির শর্তাবলী ভালোভাবে না পড়া

বীমা পলিসির চুক্তিপত্রটি একটি দীর্ঘ এবং জটিল নথি হতে পারে, আর এই কারণেই অনেকেই এটি ভালোভাবে না পড়ে স্বাক্ষর করে দেন। এটি একটি চরম ভুল! আমার নিজের মনে আছে, প্রথমবার যখন আমি পলিসি কিনি, তখন এজেন্টের কথায় ভরসা করে চুক্তিপত্রটি দ্রুত চোখ বুলিয়েছিলাম। পরে যখন পলিসি সম্পর্কে আরও জানতে শুরু করি, তখন বুঝতে পারি যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা আমার নজর এড়িয়ে গিয়েছিল। পলিসির প্রতিটি শর্ত, যেমন – প্রিমিয়াম পরিশোধের তারিখ, গ্রেস পিরিয়ড, ল্যাপস হওয়ার শর্তাবলী, ক্লেম সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়া, এক্সক্লুশন বা বর্জনীয় বিষয়াবলী – এই সবগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, কোন পরিস্থিতিতে আপনার ক্লেম বাতিল হতে পারে বা কভারেজ পাওয়া যাবে না, তা অবশ্যই জেনে নিন। যদি কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হয়, তবে পলিসি ইস্যুকারী সংস্থা বা একজন নিরপেক্ষ আর্থিক উপদেষ্টার সাথে কথা বলুন। একটি ছোট্ট ভুল বা ভুল বোঝাবুঝি ভবিষ্যতে একটি বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

Advertisement

নতুন নিয়মে সর্বাধিক কর রেয়াত পাওয়ার কৌশল

সরকারের আয়কর নিয়মকানুন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, আর এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা একজন স্মার্ট করদাতার জন্য অপরিহার্য। বীমা পলিসির মাধ্যমে কর রেয়াত পাওয়ার নিয়মও এর ব্যতিক্রম নয়। নতুন আর্থিক বছরে কর কাঠামোতে কী পরিবর্তন এসেছে এবং কিভাবে আপনি আপনার বীমা বিনিয়োগের মাধ্যমে সর্বাধিক কর সাশ্রয় করতে পারবেন, তা জানাটা খুবই জরুরি। আমি নিজে প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার পর খুব মন দিয়ে করের নতুন নিয়মগুলো পর্যালোচনা করি, কারণ এর উপরই আমার বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনা নির্ভর করে। শুধু পুরনো ধারাগুলো জানলেই হবে না, নতুন আপডেটগুলোও ভালোভাবে বুঝতে হবে, যাতে আপনি ভুলভাবে কোনো কর সুবিধা দাবি করে পরবর্তীতে সমস্যায় না পড়েন। এই বছর কিছু নতুন দিকনির্দেশনা এসেছে যা বীমা পলিসি থেকে পাওয়া কর সুবিধাকে প্রভাবিত করতে পারে।

কর আইনের ধারা অনুযায়ী বীমার সঠিক ব্যবহার

আমাদের দেশের আয়কর আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারা, যেমন ৮০সি, ৮০ডি, ৮০ডিডি, ৮০ডিডিবি ইত্যাদি, বীমা প্রিমিয়ামের উপর কর রেয়াতের সুযোগ দেয়। ধারা ৮০সি-এর অধীনে আপনি জীবন বীমা পলিসির প্রিমিয়াম পরিশোধ করে করযোগ্য আয় কমাতে পারেন। এর একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যা প্রতি বছর সরকার ঘোষণা করে। স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করে আপনি ধারা ৮০ডি-এর অধীনে কর সুবিধা পেতে পারেন, যা আপনার এবং আপনার পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় মোকাবেলায় সহায়ক। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, এই ধারাগুলোর সঠিক ব্যবহার আপনাকে প্রতি বছর একটি মোটা অঙ্কের কর সাশ্রয় করতে সাহায্য করতে পারে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়মানুযায়ী কিছু প্রিমিয়ামের উপর এখন আর কর ছাড় পাওয়া যাচ্ছে না বা সীমা পরিবর্তিত হয়েছে। তাই, আপনার পলিসির ধরন এবং প্রিমিয়ামের পরিমাণ অনুযায়ী কোন ধারার অধীনে কতটুকু সুবিধা পাবেন, তা একজন ট্যাক্স বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করে নেওয়া উচিত। সঠিক তথ্য না থাকলে কর সুবিধা পেতে অসুবিধা হতে পারে।

কর পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য বীমার গুরুত্ব

소득공제 가능한 보험 - Prompt 1: Financial Security and Family Growth through Smart Insurance**

আমরা সাধারণত জীবন বীমাকে কর বাঁচানোর একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখি, কিন্তু স্বাস্থ্য বীমা (Health Insurance) যে কর সাশ্রয়ের একটি অসাধারণ হাতিয়ার, তা অনেকেই ভুলে যান। চিকিৎসা ব্যয় যে হারে বাড়ছে, তাতে একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা থাকা এখন আর শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং একটি আবশ্যকীয় প্রয়োজন। আর এর প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও আপনি ধারা ৮০ডি-এর অধীনে কর রেয়াত পেতে পারেন। এটি আপনার পরিবারের সুরক্ষার পাশাপাশি আপনার পকেটেও কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। আমার এক বন্ধুর বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। সৌভাগ্যবশত, তাদের একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা ছিল, যা এই বিশাল ব্যয়ভার সামলাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, তারা এই প্রিমিয়ামের জন্য কর সুবিধাও পেয়েছিল। তাই, আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য একটি পর্যাপ্ত কভারেজের স্বাস্থ্য বীমা নেওয়াটা একদিকে যেমন অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা খরচের হাত থেকে বাঁচায়, তেমনি অন্যদিকে আপনার করের বোঝাও হালকা করে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিরোধের জন্য যে খরচ হয়, তার উপরও কিছু কর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, যা অনেকেই জানেন না।

আমার অভিজ্ঞতা: বীমা কীভাবে আমার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে

মানুষ হিসেবে আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময়ই চিন্তিত থাকি। আর আমি নিজেও এর ব্যতিক্রম নই। যখন আমি আমার কর্মজীবনের শুরুতে অর্থনৈতিকভাবে অনিশ্চিত ছিলাম, তখন বীমা আমার জন্য একটি আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেকেই মনে করেন, বীমা হলো শুধু টাকা নষ্ট করা, বিশেষ করে যদি কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বীমা আমাকে শুধু আর্থিক নিরাপত্তা দেয়নি, বরং একটি মানসিক শান্তি দিয়েছে, যা অন্য কোনো বিনিয়োগ থেকে আমি পাইনি। এটি আমাকে আরও সাহসী করে তুলেছে জীবনের ঝুঁকি নিতে, কারণ আমি জানতাম আমার পরিবার কঠিন সময়ে সুরক্ষিত থাকবে। এটি আমার কাছে কেবল একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং একটি প্রতিজ্ঞা, যা আমি আমার এবং আমার পরিবারের প্রতি করেছি।

কঠিন সময়ে বীমার অপ্রত্যাশিত সাহায্য

জীবন কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়, আর এমন একটি মোড় আমার জীবনেও এসেছিল। কয়েক বছর আগে, আমি একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম এবং যার ফলে কিছুদিন কাজ করতে পারিনি। সেই সময় আমার হেলথ ইনস্যুরেন্স পলিসিটি ছিল আশীর্বাদের মতো। হাসপাতালের বিল, ওষুধের খরচ – সবটাই বীমা কোম্পানি থেকে কভার হয়েছিল। ভাবুন তো, যদি আমার কাছে বীমা না থাকত, তবে সেই সময়টা আমার জন্য কতটা কঠিন হতে পারত! আমাকে হয়তো সঞ্চয় ভেঙে চলতে হতো, অথবা ধার করতে হতো। এই ঘটনা আমাকে শিখিয়েছে যে, বীমা শুধুমাত্র একটি বিনিয়োগ নয়, এটি একটি অদৃশ্য ছাতা, যা ঝড়ের সময় আপনাকে সুরক্ষা দেয়। আমার মনে আছে, আমার এক বন্ধুকে দেখেছি, যার পরিবারের একজন সদস্যের গুরুতর অসুস্থতায় সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গিয়েছিল, কারণ তাদের কোনো স্বাস্থ্য বীমা ছিল না। সেই দৃশ্যটা আমাকে আরও দৃঢ় করেছে যে, বীমা অপরিহার্য।

মানসিক শান্তি এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস

আর্থিক নিরাপত্তা শুধুমাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই আসে না, এটি আসে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে আপনার মানসিক প্রস্তুতি থেকে। আমার বীমা পলিসিগুলো আমাকে সেই মানসিক শান্তি দিয়েছে। আমি জানি, যদি আমার কিছু হয়, তবে আমার পরিবারকে অন্তত অর্থনৈতিকভাবে কষ্ট পেতে হবে না। এই আত্মবিশ্বাস আমাকে আমার পেশাগত জীবনে আরও ঝুঁকি নিতে এবং নতুন উদ্যোগ শুরু করতে সাহায্য করেছে। আমার এক সহকর্মী ছিলেন, যিনি সব সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন, কারণ তার কোনো বীমা ছিল না। তার মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করত, যা তার কাজকেও প্রভাবিত করত। এই মানসিক শান্তি যে কতটা মূল্যবান, তা শুধু তারাই বোঝেন যারা এটি পেয়েছেন। বীমা শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয় না, এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেয়। এটি আপনাকে আপনার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে, কারণ আপনি জানেন আপনার পেছনে একটি সুরক্ষা জাল রয়েছে।

Advertisement

ডিজিটাল যুগে বীমা: সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে প্রতিটি শিল্পই নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিচ্ছে, আর বীমা খাতও এর ব্যতিক্রম নয়। ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের কল্যাণে বীমা পলিসি কেনা, পরিচালনা করা এবং ক্লেম করা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমার মনে আছে, এক সময় বীমা কেনার জন্য এজেন্টের কাছে যেতে হতো, অনেক ফর্ম পূরণ করতে হতো, আর প্রক্রিয়াটা ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ। কিন্তু এখন আপনি ঘরে বসেই অনলাইন পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই পলিসি কিনতে পারছেন, প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারছেন, এমনকি ক্লেমও দাখিল করতে পারছেন। এই ডিজিটাল বিপ্লব বীমা শিল্পকে আরও সহজলভ্য এবং গ্রাহক-বান্ধব করে তুলেছে। তবে, এই সুবিধার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে যা সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকা উচিত।

অনলাইন বীমা: সুবিধা এবং সহজলভ্যতা

অনলাইনে বীমা কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সহজলভ্যতা এবং স্বচ্ছতা। আপনি বিভিন্ন বীমা কোম্পানির পলিসিগুলো এক ক্লিকেই তুলনা করতে পারেন, তাদের বৈশিষ্ট্য, প্রিমিয়ামের হার এবং শর্তাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। আমার এক বন্ধু সম্প্রতি অনলাইনে একটি টার্ম ইনস্যুরেন্স কিনেছে। সে আমাকে বলেছিল যে, সে বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ১৫-২০টি পলিসি তুলনা করে তার জন্য সবচেয়ে সেরাটি বেছে নিতে পেরেছে, যা অফলাইন বাজারে এতটা সহজ ছিল না। এছাড়া, অনলাইন প্রিমিয়ামগুলো প্রায়শই অফলাইন প্রিমিয়ামের চেয়ে কিছুটা কম হয়, কারণ এখানে মধ্যস্বত্বভোগীর খরচ থাকে না। এটি সময়ও বাঁচায় এবং কাগজপত্র কমানো যায়। ই-পলিসি আকারে আপনার নথিগুলো নিরাপদে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হয়, যা হারিয়ে যাওয়ার ভয় কমায় এবং প্রয়োজনে সহজেই অ্যাক্সেস করা যায়। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমগুলো প্রিমিয়াম পরিশোধকে আরও সুবিধাজনক করে তুলেছে, যা আপনাকে সময় মতো প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে সাহায্য করে।

সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্য সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ

যদিও ডিজিটাল বীমা অনেক সুবিধা এনেছে, তবে এর সাথে সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও জড়িত। অনলাইনে যখন আপনি আপনার ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য শেয়ার করেন, তখন তা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমার মনে আছে, একবার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার গুজব ছড়িয়েছিল, যা আমাকে বেশ চিন্তায় ফেলেছিল। তাই, বীমা কেনার আগে অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে আপনি একটি নির্ভরযোগ্য এবং সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। কোম্পানির ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডেটা এনক্রিপশন এবং প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। এছাড়াও, অনলাইনে করা লেনদেনগুলোর জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। ভুয়া ওয়েবসাইট বা ফিশিং স্ক্যাম থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ কিছু অসাধু চক্র এই সুযোগের অপব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রতারিত করতে পারে। সচেতনতা এবং সতর্কতা এই ডিজিটাল যুগে আপনার অনলাইন বীমা অভিজ্ঞতাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

বীমা ও বিনিয়োগ: ভবিষ্যতের সুরক্ষায় সেরা কম্বিনেশন

আর্থিক পরিকল্পনা মানে শুধু অর্থ সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করা নয়, বরং একটি সুষম কৌশল তৈরি করা যা আপনার বর্তমান প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলোও পূরণ করতে পারে। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, বীমা এবং বিনিয়োগকে আলাদাভাবে দেখার পরিবর্তে একটি সমন্বিত অংশ হিসেবে দেখা উচিত। এই দুটির সঠিক সংমিশ্রণ আপনার আর্থিক পোর্টফোলিওকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, যা আপনাকে যেকোনো আর্থিক ঝড় মোকাবেলা করতে সাহায্য করে। যখন আমি আমার আর্থিক উপদেষ্টা বন্ধুদের সাথে কথা বলি, তখন তারাও এই সমন্বিত পদ্ধতির গুরুত্বের উপর জোর দেন। শুধু বীমা বা শুধু বিনিয়োগ কোনোটিই এককভাবে আপনার সমস্ত প্রয়োজন মেটাতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ধাপে এই দুটির সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করাটাই হলো স্মার্ট আর্থিক পরিকল্পনার মূল মন্ত্র।

পলিসির ধরন প্রধান বৈশিষ্ট্য আয়কর সুবিধা (সাধারণত) কার জন্য উপযোগী
টার্ম ইনস্যুরেন্স কম প্রিমিয়ামে উচ্চ জীবন কভারেজ; ম্যাচুরিটি বেনিফিট নেই। ধারা 80C পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, অল্প বয়স্ক ব্যক্তি
এনডাওমেন্ট প্ল্যান জীবন কভারেজ + সঞ্চয়; ম্যাচুরিটিতে নিশ্চিত রিটার্ন। ধারা 80C, 10(10D) যারা সুরক্ষা ও সঞ্চয় একসাথে চান
ইউএলআইপি (ULIP) জীবন কভারেজ + বাজার-ভিত্তিক বিনিয়োগ; উচ্চতর রিটার্নের সম্ভাবনা। ধারা 80C, 10(10D) যারা ঝুঁকি নিয়ে উচ্চ রিটার্ন চান
হেলথ ইনস্যুরেন্স চিকিৎসা ব্যয় কভারেজ। ধারা 80D সকল ব্যক্তি ও পরিবার, ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য
চাইল্ড প্ল্যান শিশুদের ভবিষ্যৎ (শিক্ষা/বিয়ে) খরচের জন্য তহবিল তৈরি। ধারা 80C, 10(10D) সন্তান আছে এমন অভিভাবক

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ বৃদ্ধি

বীমা হলো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ। এটি আপনার অপ্রত্যাশিত আর্থিক ধাক্কা থেকে আপনার পরিবারকে রক্ষা করে। আর বিনিয়োগ হলো সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল। এই দুটিকে একসাথে ব্যবহার করলে আপনি একটি সুদৃঢ় আর্থিক দুর্গ তৈরি করতে পারবেন। আমার এক আত্মীয় আছেন যিনি বিশ্বাস করতেন যে শুধু বিনিয়োগই যথেষ্ট। তার পোর্টফোলিওতে ছিল শুধুমাত্র শেয়ার বাজার এবং রিয়েল এস্টেট। কিন্তু যখন তার পরিবারে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সংকট আসে, তখন তাকে সেই বিনিয়োগ থেকে টাকা তুলতে হয়, যা তার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোকে প্রভাবিত করে। যদি তার একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা থাকত, তাহলে তাকে হয়তো এই সিদ্ধান্ত নিতে হতো না। তাই, বীমা আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখে। এটি আপনাকে অপ্রত্যাশিত ব্যয়ভার থেকে মুক্তি দেয়, যা অন্যথায় আপনার বিনিয়োগের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারত। একটি শক্তিশালী বীমা কভারেজ নিশ্চিত করার পর, আপনার অবশিষ্ট তহবিল দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে ব্যবহার করুন, যেমন মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক বা রিয়েল এস্টেট। এই সমন্বয় আপনাকে উভয় বিশ্বের সেরাটা দেবে – অপ্রত্যাশিতের বিরুদ্ধে সুরক্ষা এবং সম্পদ বৃদ্ধির সুযোগ।

সুষম পোর্টফোলিও তৈরির গুরুত্ব

একটি সুষম আর্থিক পোর্টফোলিও তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বীমা এবং বিনিয়োগের একটি স্বাস্থ্যকর মিশ্রণ থাকবে। আপনার বয়স, ঝুঁকি সহনশীলতা এবং আর্থিক লক্ষ্যের উপর নির্ভর করে এই মিশ্রণটি পরিবর্তিত হতে পারে। যখন আপনি তরুণ, তখন আপনি হয়তো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন, পাশাপাশি একটি পর্যাপ্ত টার্ম ইনস্যুরেন্সও রাখতে পারেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার পোর্টফোলিওতে সুরক্ষা এবং স্থিতিশীল বিনিয়োগের অংশ বাড়ানো উচিত। আমার আর্থিক উপদেষ্টার সাথে প্রতি বছর আমার পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করি, যাতে আমার জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং আর্থিক লক্ষ্যের সাথে তা মানানসই থাকে। এটি আমাকে নিশ্চিত করে যে আমি সঠিক পথে আছি এবং আমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত। মনে রাখবেন, আর্থিক পরিকল্পনা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা নিয়মিত পর্যালোচনা এবং সমন্বয় দাবি করে। বীমা এবং বিনিয়োগকে আপনার আর্থিক যাত্রার দুটি পাখা হিসেবে দেখুন – একটি ছাড়া অন্যটি আপনাকে সাফল্যের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না।

Advertisement

লেখাটি শেষ করছি

প্রিয় পাঠকেরা, বীমা শুধুমাত্র একটি আর্থিক পণ্য নয়, এটি আপনার জীবনের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঢাল, এবং একই সাথে ভবিষ্যতের জন্য একটি স্মার্ট বিনিয়োগের সুযোগও। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি বারবার দেখেছি, সঠিক বীমা পরিকল্পনা আমাদের শুধু অপ্রত্যাশিত বিপদ থেকে রক্ষা করে না, বরং মানসিক শান্তি এবং আত্মবিশ্বাসও যোগায়। এটি আমাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে, কারণ আমরা জানি আমাদের পেছনে একটি সুরক্ষা জাল রয়েছে। তাই, বীমাকে নিছক একটি ব্যয় হিসেবে না দেখে, বরং আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য একটি অপরিহার্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন। মনে রাখবেন, আজকের ছোট একটি সিদ্ধান্তই আপনার আগামীকালের আর্থিক নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে পারে। জীবনের প্রতিটি ধাপে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক বীমা পরিকল্পনা বেছে নেওয়াটা খুবই জরুরি।

কয়েকটি দরকারী তথ্য

এখানে কিছু জরুরি তথ্য দেওয়া হলো যা আপনার বীমা পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে:

১. নিয়মিত পলিসি পর্যালোচনা করুন: আপনার জীবনের প্রতিটি বড় পরিবর্তনের (বিয়ে, সন্তান, নতুন বাড়ি) সাথে আপনার বীমা প্রয়োজনও বদলায়। তাই, প্রতি ৫-৭ বছর অন্তর অথবা বড় কোনো আর্থিক ঘটনা ঘটলে আপনার বীমা পলিসিগুলো পর্যালোচনা করুন এবং প্রয়োজনে কভারেজ বাড়ান বা নতুন পলিসি নিন। অনেকেই একটি পলিসি নিয়ে আর কখনও সেটির খোঁজ খবর রাখেন না, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় ভুল হতে পারে। আপনার বর্তমান আয়, ঋণের পরিমাণ, এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলোর সাথে বীমার কভারেজ মানানসই কিনা, তা দেখা খুবই জরুরি।

২. শর্তাবলী ভালোভাবে বুঝুন: যেকোনো বীমা পলিসি কেনার আগে সেটির সমস্ত শর্তাবলী, বর্জনীয় বিষয়াবলী (exclusions) এবং ক্লেম প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে নিন। এজেন্টের কথায় ভরসা না করে পলিসির নথিটি নিজে ভালোভাবে পড়ুন। কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে সরাসরি বীমা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন অথবা একজন নিরপেক্ষ আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন। অনেক সময় ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বা অসাবধানতা ভবিষ্যতে ক্লেম সেটেলমেন্টের সময় বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩. স্বাস্থ্য বীমাকে অগ্রাধিকার দিন: জীবন বীমার পাশাপাশি একটি পর্যাপ্ত কভারেজের স্বাস্থ্য বীমা থাকা বর্তমানে অত্যাবশ্যক। চিকিৎসা ব্যয় যে হারে বাড়ছে, তাতে অপ্রত্যাশিত অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা আপনার সমস্ত সঞ্চয় শেষ করে দিতে পারে। ধারা ৮০ডি-এর অধীনে স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়ামের উপর কর সুবিধাও পাওয়া যায়, যা এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা কঠিন সময়ে কতটা উপকারে আসে। এটি শুধু আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয় না, বরং আপনার আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।

৪. শুধুমাত্র কর বাঁচানোর জন্য বীমা কিনবেন না: যদিও বীমা পলিসি কর সাশ্রয়ের একটি দারুণ উপায়, তবে এটিকে একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে দেখলে ভুল করবেন। আপনার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একটি ভুল পলিসি শুধু কর বাঁচাবে কিন্তু আপনার আসল প্রয়োজন মেটাতে পারবে না। তাই, আপনার আর্থিক লক্ষ্য, পরিবারের প্রয়োজন এবং ঝুঁকি সহনশীলতার সাথে মানানসই একটি পলিসি বেছে নিন, যেখানে কর সাশ্রয় একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে আসবে।

৫. পেশাদার আর্থিক পরামর্শ নিন: বীমা একটি জটিল বিষয় হতে পারে। আপনার জন্য সেরা পরিকল্পনা কোনটি হবে তা জানতে একজন অভিজ্ঞ আর্থিক উপদেষ্টার সাহায্য নিন। তারা আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে এবং আপনার ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলো বিবেচনা করে একটি উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারবেন। তাদের পরামর্শ আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং ভুল এড়াতে সহায়তা করবে। আমি নিজে সবসময় একজন উপদেষ্টার সাথে আমার আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করি, যা আমাকে সঠিক পথে থাকতে সাহায্য করে।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

আমরা দেখেছি, বীমা শুধু একটি সুরক্ষা কবচ নয়, এটি একটি স্মার্ট বিনিয়োগ কৌশল যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরি করতে এবং আর্থিক লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে। কর সাশ্রয় থেকে শুরু করে অপ্রত্যাশিত বিপদ মোকাবেলা পর্যন্ত, বীমার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে, জীবনের বিভিন্ন ধাপে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পলিসি নির্বাচন করা এবং সেগুলোকে নিয়মিত পর্যালোচনা করা আপনার আর্থিক দুর্গ গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল যুগে বীমা কেনা আরও সহজ হলেও, সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের সুরক্ষায় আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বীমা এবং বিনিয়োগের একটি সুষম মিশ্রণই আপনাকে মানসিক শান্তি দেবে এবং একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। তাই, আজই আপনার বীমা পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবুন!

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: জীবন বীমা কি শুধু বিপদের সময় কাজে আসে, নাকি এর আরও কোনো বিশেষ সুবিধা আছে?

উ: আরে ভাই, এই প্রশ্নটা আমি যখন প্রথমবার বীমা নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেছিলাম, আমার মাথায়ও ঘুরপাক খাচ্ছিলো! অনেকেই ভাবেন, বীমা মানেই বুঝি শুধু ‘মারা গেলে টাকা পাওয়া’ বা ‘বিপদে পড়লে এককালীন আর্থিক সহায়তা’। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, এই ধারণাটা একদমই ভুল। জীবন বীমা শুধু আপনার অনুপস্থিতিতে পরিবারের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় না, বরং জীবিত থাকা অবস্থাতেও আপনাকে দারুণ কিছু সুবিধা দেয়!
প্রথমত, আর্থিক নিরাপত্তা তো আছেই। ধরুন, আমার মতো একজন উপার্জনশীল মানুষ, যদি হঠাৎ কিছু হয়ে যায় (আল্লাহ না করুন!), তখন আমার পরিবারের মাসিক খরচ, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, বাধার ইএমআই—এসব কে দেখবে?
জীবন বীমা এই কঠিন পরিস্থিতিতে আপনার প্রিয়জনদের জন্য একটি মজবুত আর্থিক আশ্রয় তৈরি করে। আমি নিজে দেখেছি, আমার এক বন্ধুর বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ার পর তাদের পরিবার কীভাবে বীমার টাকায় আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই জিনিসটা শুধু টাকা নয়, একটা মানসিক শান্তিও দেয়।দ্বিতীয়ত, এটি একটি দারুণ সঞ্চয়ের মাধ্যম। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন!
অনেক জীবন বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আপনি মোটা অঙ্কের টাকা ফেরত পান, সাথে বোনাসও থাকে। এটা অনেকটা জোর করে সঞ্চয় করার মতো। আমার নিজের একটা পলিসি আছে যেখানে আমি নিয়মিত প্রিমিয়াম দিই, আর একটা নির্দিষ্ট সময় পর সেই টাকাটা ফেরত পাবো। তখন হয়তো কোনো বড় শখ পূরণ করবো বা মেয়ের বিয়েতে কাজে লাগাবো।আর তৃতীয় যে সুবিধার কথা না বললেই নয়, সেটা হলো আয়কর সাশ্রয়!
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, বীমার প্রিমিয়াম জমা দিয়ে আপনি প্রতি বছর আপনার প্রদেয় আয়করের একটি বড় অংশ বাঁচাতে পারেন। ভাবুন তো, আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হচ্ছে, সঞ্চয়ও হচ্ছে, আর তার সাথে সরকারের কাছে বাড়তি করও দিতে হচ্ছে না!
এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে? এখনকার দিনে যখন আমরা সবাই স্মার্টভাবে টাকা ম্যানেজ করতে চাই, তখন বীমা যে কতটা উপকারী, সেটা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি।

প্র: বাংলাদেশে বীমা পলিসি কিনে আয়কর রেয়াত পাওয়ার নিয়মটা আসলে কী? কত টাকা পর্যন্ত রেয়াত পেতে পারি?

উ: উফফ! এই প্রশ্নটা প্রায় সবার মুখেই শুনি। আর সত্যি বলতে কী, এই সুবিধাটা জানার পর থেকে আমার আর আয়কর দিতে অতটা কষ্ট হয় না! বাংলাদেশে বীমা পলিসি কিনে আয়কর রেয়াত (Tax Rebate) পাওয়ার একটা অসাধারণ সুযোগ আছে।সহজভাবে বলি, আপনি যে আয়কর দেন, সেই করযোগ্য আয়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ যদি কিছু অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের ওপর আপনি কর রেয়াত পান। জীবন বীমার প্রিমিয়াম এই অনুমোদিত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং খুব শক্তিশালী একটি অপশন।নিয়মটা হলো: আপনি আপনার মোট আয়ের ২০% পর্যন্ত বীমার প্রিমিয়াম বা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। আর এই বিনিয়োগ করা অর্থের ওপর আপনি ১৫% পর্যন্ত আয়কর রেয়াত পাবেন। ধরুন, আপনার করযোগ্য আয় বছরে ১০ লাখ টাকা। তাহলে আপনি ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন (১০ লাখের ২০%)। যদি আপনি এই ২ লাখ টাকা বীমার প্রিমিয়াম হিসেবে জমা দেন, তাহলে আপনি ২ লাখ টাকার ১৫% অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকা সরাসরি আপনার প্রদেয় কর থেকে ছাড় পাবেন। ভাবুন তো, নগদে ৩০ হাজার টাকা!
এটা কি কম কথা! অন্যান্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রের সাথে যদি তুলনা করেন, যেমন ধরুন ডিপোজিট পেনশন স্কিম (DPS), সেখানে বছরে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকার ওপর কর রেয়াত পাওয়া যায়। কিন্তু জীবন বীমার ক্ষেত্রে এই সীমা অনেকটাই বেশি, যা আপনার মোট আয়ের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, আপনি যদি ভালো উপার্জন করেন, তাহলে বীমার মাধ্যমে আরও বেশি কর সাশ্রয় করতে পারবেন। আমার নিজের ট্যাক্স প্ল্যানিংয়ে বীমা একটা বড় ভূমিকা রাখে, আর আমি এর সুবিধা হাতে হাতে পেয়েছি। প্রতি বছর যখন ইনকাম ট্যাক্স ফাইল করি, তখন এই রেয়াতটা আমার অনেক কাজে আসে।

প্র: একটা ভালো বীমা পলিসি কেনার আগে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার কী কী বিষয় খেয়াল রাখা উচিত?

উ: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন, কারণ ভুল বীমা পলিসি বা ভুল কোম্পানি বেছে নিলে আপনার কষ্টার্জিত টাকা নষ্ট হতে পারে, আর সময় মতো সুবিধাও নাও পেতে পারেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কিছু বিষয় আছে যা কেনার আগে অবশ্যই খুঁটিয়ে দেখা উচিত।১.
কোম্পানির সুনাম ও আর্থিক সক্ষমতা: সবার আগে দেখুন, কোম্পানিটা কত দিনের পুরনো, তাদের বাজার সুনাম কেমন। যে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি মজবুত, তারাই ভবিষ্যতে আপনার দাবি মেটাতে সক্ষম হবে। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বীমা কেনার আগে ভালো করে যাচাই করে নিন। আমি সবসময় এমন কোম্পানির দিকেই বেশি ভরসা রাখি, যারা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে কাজ করে আসছে।২.
দাবি পরিশোধের হার (Claim Settlement Ratio): এটা সবচেয়ে জরুরি। কোনো কোম্পানি কত দ্রুত এবং কত সংখ্যক দাবি পরিশোধ করে, সেটার একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ (IDRA)-এর ওয়েবসাইটে এই তথ্য পাওয়া যায়। যে কোম্পানির দাবি পরিশোধের হার যত বেশি, সেই কোম্পানি তত বেশি নির্ভরযোগ্য। আমার এক আত্মীয় একটি ছোট কোম্পানির পলিসি নিয়ে খুব ভুগছিলেন দাবি পেতে, তখন বুঝেছিলাম এই দিকটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।৩.
পলিসির শর্তাবলী ভালোভাবে বুঝুন: তাড়াহুড়ো করে কোনো পলিসি কিনবেন না। পলিসির প্রতিটি ধারা, উপধারা, সুবিধা, অসুবিধা, প্রিমিয়ামের পরিমাণ, মেয়াদ, মেয়াদপূর্তিতে কী পাবেন, মৃত্যুর ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তি কী সুবিধা পাবেন—এসব বিস্তারিত জেনে নিন। কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে এজেন্টকে বারবার জিজ্ঞাসা করুন। প্রয়োজনে লিখিতভাবে উত্তর চান। অনেকে শুধু এজেন্টের মিষ্টি কথায় প্রভাবিত হয়ে পলিসি কিনে পরে আফসোস করেন।৪.
এজেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা: এজেন্টের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার বদলে সরাসরি কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অথবা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে প্রিমিয়াম পরিশোধ করুন এবং অবশ্যই রশিদ বুঝে নিন। নগদ টাকা এজেন্টের হাতে দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমার নিজের একটা বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল এজেন্টের কথায় প্রভাবিত হয়ে, তাই আমি এই ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকি।৫.
আপনার প্রয়োজন বুঝে পলিসি নিন: শুধু কর সাশ্রয়ের জন্য নয়, আপনার এবং আপনার পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী পলিসি বেছে নিন। আপনার আয়ের কত গুণ বীমা সুরক্ষা প্রয়োজন, সেটা হিসাব করে নিন। মেটলাইফের মতো কিছু কোম্পানি আপনার বার্ষিক আয়ের অন্তত ১০ গুণ বীমা সুরক্ষা রাখার পরামর্শ দেয়। আপনার বয়স, পেশা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ঋণের পরিমাণ—সবকিছু বিবেচনা করে সেরা পলিসিটি বেছে নিন। মনে রাখবেন, বীমা শুধু একটি চুক্তি নয়, এটি আপনার ভালোবাসার মানুষের প্রতি আপনার দায়িত্বশীলতার প্রমাণ।

📚 তথ্যসূত্র